ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন আইয়ুবপুর। এই ইউনিয়নে দেশবরেণ্য অগণিত কৃতি সন্তানের জন্ম হয়েছে। এদেরই একজন রেমিটেন্সযোদ্ধা এ কে এম ফজলুল হক স্বপন। তার পিতা মরহুম সুন্দর মিয়া আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া সুন্দর মিয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাদের পারিবারিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক অবস্থান বেশ উন্নত এবং সমৃদ্ধ।
এ কে এম ফজলুল হক স্বপন ১৯৬৯ সালের ৪ ডিসেম্বর আইয়ুবপুর ইউনিয়নের দশানী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মরহুম সুন্দর মিয়া চেয়ারম্যান ও মরহুমা ফিরোজা বেগমের দ্বিতীয় ছেলে ফজলুল হক স্বপন ১৯৮৫ সালে বাঞ্ছারামপুর এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রী কলেজে পড়াশুনা করেন এবং রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রী কলেজের প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনিই সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। পড়াশুনা ও রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন কৃতি ফুটবলার ছিলেন। তৎকালিন সময়ে বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে অন্যতম সেরা গোলকিপার ছিলেন ফজলুল হক স্বপন। তারপর একসময় জীবন জীবিকার উদ্দেশ্যে প্রবাসে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাস জীবনে বাংলাদেশের একজন সফল রেমিটেন্সযোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন। ঈদ, পূঁজা পার্বণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। জীবনের একটা বড় সময় প্রবাসে কাটালেও গ্রাম তথা এলাকার সাথে ছিল তার গভীর সর্ম্পক। প্রচার বিমুখ মানুষ ফজলুল হক স্বপন নিরবে নির্ভৃতে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে ও কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আর সেই কারণেই এলাকার মাটি ও মানুষের টানে তিনি ছুটে এসেছেন। দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। সেই ভাবনা ও চিন্তা চেতনায় নিজেকেও প্রস্তুত করেছেন ফজলুল হক স্বপন। জীবনের বাকি সময়টুকু আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। পরে বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনা মোতাবেক দেশ বিদেশে দলের স্বার্থে কাজ করেন। তিনি মালয়েশিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মালয়েশিয়াতে বিএনপিকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করান। বিগত সময়ে তারেক রহমানের নির্দেশ মতো পুরো মালয়েশিয়াতে দিনরাত পরিশ্রম করেন ফজলুল হক স্বপন। একসময় মরহুম আরাফাত রহমান কোকের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে। পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথেও সম্পর্ক গভীর হয়। বলতে গেলে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের সাথে মিশে যান তিনি। আর সেই কারণেই এলাকাবাসী মনে করছে ফজলুল হক স্বপন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সবচেয়ে এগিয়ে যাবে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা ফজলুল হক স্বপন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাস জীবনের সফল ক্যারিয়ারের চেয়েও দেশের মাটির টান আর জনসেবার আকাঙ্খাকে বড় করে দেখে তিনি এখন নিজ জনপদে ফিরে এসেছেন। তার এই ফিরে আসা এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
মালয়েশিয়া বিএনপির প্রাণপুরুষ ও ত্যাগী নেতৃত্ব এ কে এম ফজলুল হক স্বপন কেবল একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী বা কর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিদেশের মাটিতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের এক অকুতোভয় সিপাহসালার। মালয়েশিয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে তিনি প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাস জীবনে তিনি মালয়েশিয়া অবস্থানরত বাঞ্ছারামপুরসহ সারা দেশের বিএনপি নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিলেন। প্রবাসে কারাবরণকারী নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অসুস্থ প্রবাসীদের সেবা এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মালয়েশিয়া সফরে সমন্বয়কারী হিসেবে তার অবদান অপরিসীম। কেন্দ্রীয় বিএনপির সকলস্তরের নেতাকর্মী তাকে দীর্ঘকাল ধরে একজন পরম “আপনজন” হিসেবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে বসিয়েছেন।
মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে ফজলুল হক স্বপনের পরিচিতি সর্বজনবিদিত। দলের দুর্দিনে এবং সুদিনে উভয় সময়েই তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনায় জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং ব্যক্তিগত সততার কারণে তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে এক বিশ্বস্ত নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সাথে স্বপনের সম্পর্ক রক্তের এবং আত্মার। তিনি আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সময়ের দিকপাল চেয়ারম্যান মরহুম সুন্দর মিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র। তার বাবা যেমন আজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন এবং দশানী গ্রামের নাম উজ্জ্বল করেছেন, স্বপন মিয়াও সেই একই আদর্শ বুকে ধারণ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় জনগণের মতে, “বাবার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে স্বপনই পারবেন আইয়ুবপুরকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যমুক্ত ইউনিয়নে রূপান্তর করতে।”
আসন্ন আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তার নাম প্রচার হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দলমত নির্বিশেষে মানুষ মনে করছে একজন শিক্ষিত, অভিজ্ঞ এবং বিনয়ী নেতার হাতে ইউনিয়নের দায়িত্ব থাকা জরুরি। তাছাড়া পুরো ইউনিয়নে তিনি একজন সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। এমনিতেই একটি স্বচ্ছল পরিবারে তার জন্ম। তাছাড়া প্রবাসেও তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী এবং রেমিটেন্সযোদ্ধা হিসেবে সফল ব্যক্তি। আর সেই কারণে তার অর্থলিপ্সা নেই। যা একটি স্বচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে সহায়ক হবে। সেই সাথে একজন সফল প্রবাসী হিসেবে তিনি এলাকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।
এ কে এম ফজলুল হক স্বপন কেবল একটি নাম নয়, বরং আইয়ুবপুর ইউনিয়নের জন্য একটি সম্ভাবনার নাম। দীর্ঘ ৩৫ বছর প্রবাসে থেকেও যিনি দেশের মানুষের কথা ভোলেননি, যার হৃদয়ে সর্বক্ষণ বাঞ্ছারামপুরের মাটি ও মানুষের জন্য ভালোবাসা স্পন্দিত হয়েছে, সেই মানুষটিই এখন তার জীবনের শেষ সময়টুকু বিলিয়ে দিতে চান জন্মভূমির সেবায়। তার প্রার্থিতা কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং আইয়ুবপুরের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লড়াই।
দশানী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের এই সন্তান তার মেধা, মনন, সততা, প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে আইয়ুবপুর ইউনিয়নকে একটি আদর্শ মডেল ইউনিয়নে পরিণত করবেন এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের চাওয়া।
এ কে এম ফজলুল হক স্বপন আইয়ুবপুর ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন।








































আপনার মতামত লিখুন :